বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
বাবাকে দেখেনি নবজাতক কন্যা, ঈদের আগে মুক্তির অপেক্ষায় তিন সন্তানের বাবা নাছিম ঠাকুরগাঁওয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না: শিক্ষামন্ত্রী ঈদে ৬ দিন ট্রাক কাভার্ডভ্যান-লরি চলাচল বন্ধ ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে কাজ করি, এই প্রথম একসঙ্গে ৯টি কবর খুঁড়লাম’ রাজশাহীতে নারী ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে ব্লাস্টের সভা পঞ্চগড়ে উত্তরণের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা দেখে ত্রাণমন্ত্রীর ৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম রংপুরের তারাগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত
লালমনিরহাটে মিথ্যা মামলার টার্গেট কেন সাংবাদিক সাগর?

লালমনিরহাটে মিথ্যা মামলার টার্গেট কেন সাংবাদিক সাগর?

ভুক্তভোগী সাংবাদিক খোরশেদ আলম সাগর

আশরাফুল হক: সাংবাদিকতার অপরাধ কি সত্য তুলে ধরা? অনিয়মের চিত্র প্রকাশ করলেই কি একজন সংবাদকর্মীকে মিথ্যা মামলার আসামি হতে হবে? লালমনিরহাটের খোরশেদ আলম সাগরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি এ প্রশ্নগুলো আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সড়ক সংস্কারকাজ দখল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর হঠাৎ করেই তার নামে পুরোনো একটি ঘটনার জের টেনে মামলা দেওয়া—এ যেন স্বাধীন সাংবাদিকতার গলায় দড়ি পরানোর সামিল। এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ উত্তাল, বিবৃতি আসছে একের পর এক, আর সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—মিথ্যা মামলার টার্গেট কেন সাগর?

 

একজন সাংবাদিক কি শুধু সংবাদ প্রকাশের দায়ে আসামি হবেন?
লালমনিরহাটে সাংবাদিক খোরশেদ আলম সাগরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ঘটনাই কি সেই প্রশ্নের উত্তর দেয় না? সড়ক সংস্কারকাজ দখল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর তার পরেই হয়রানিমূলক মামলার আসামি হয়ে গেলেন। সাংবাদিকের কলম কি তাহলে অপরাধী, নাকি অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই এখন অপরাধ?

একটি পুরোনো ঘটনা টেনে এনে মামলা করার উদ্দেশ্যই বা কী?
২০২৩ সালের একটি ঘটনা হঠাৎ করে তুলে এনে আজ মামলা দায়ের করা হলো। কেন? এতে কি বোঝা যায় না, সাংবাদিকের কণ্ঠ রুদ্ধ করাই ছিল মূল লক্ষ্য? স্বাধীন সাংবাদিকতা কি তবে আগেভাগেই অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হলো?

 

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা কেন?
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বলছে—সারাদেশে একের পর এক সাংবাদিক হয় হামলার শিকার হচ্ছেন, নয়তো মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন। এর পেছনে কী সেই একই কারণ—অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশের সাহস দেখানো? তাহলে কি সাংবাদিকতার কাজ এখন কেবল প্রশংসার স্তবগান গাওয়া?

সাংবাদিক সমাজ যখন একসঙ্গে প্রতিবাদ করছে, তবুও কি প্রশাসন শুনবে না?
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, আদিতমারী, কালীগঞ্জসহ তিনটি প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। সবার কণ্ঠে একই কথা—মামলাটি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক। এতগুলো কণ্ঠস্বর কি তাহলে বাতাসে মিলিয়ে যাবে? নাকি এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের গণমাধ্যম-দমন নীতির নগ্ন রূপ প্রকাশ পাচ্ছে?

 

গণতন্ত্র টিকবে কীভাবে যদি সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কাজ করতে না পারেন?
গণমাধ্যমকে বলা হয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সেই স্তম্ভই যদি একের পর এক আঘাতে ভেঙে পড়ে, তবে গণতন্ত্র দাঁড়াবে কীভাবে? সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করলে দুর্নীতি, অনিয়ম আর দুঃশাসনের খবর কে প্রকাশ করবে? জনগণ কি অন্ধকারে ডুবে যাবে?

সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ছাড়া মুক্ত সাংবাদিকতা সম্ভব?
প্রতিটি সাংবাদিক সংগঠন বলছে—সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে একটি কার্যকর আইন দরকার। আজ যদি আইন না হয়, কাল আরেকজন সাগর, আরেকজন খোরশেদ একইভাবে হয়রানির শিকার হবেন। তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কি শুধু বই-পুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

অবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—সাংবাদিকতা কি অপরাধ?
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ স্পষ্ট। তবে প্রশাসন কি শুনবে? নাকি সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার এই অঘোষিত যুদ্ধ চলতেই থাকবে? যদি সাংবাদিকতার দায় হয় কেবল মিথ্যা মামলার ভার, তবে স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র কি সত্যিই নিরাপদ?

লেখক: আশরাফুল হক, লালমনিরহাট
সাংবাদিক ও কলামিস্ট


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com